গ্যাস–সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানায় গত দুই বছরে সার উৎপাদন করা হয়েছে মাত্র তিন দিন। আশুগঞ্জ সার কারখানায় ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান–সম্পর্কিত কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

এ পরিস্থিতিতে সারসংকট নিরসন ও ব্যয় কমিয়ে আনতে দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বৈঠকে বিসিআইসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পে-অফকৃত সার কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বন্ধ সার কারখানাগুলো আবার চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি সার সরবরাহব্যবস্থার সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।